উত্তরায় ব্যবসায়িদের অনুষ্ঠানে হামলা : আহত ৮

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদ পুনমিলনী অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেয়াকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়িদের অনুষ্ঠান পন্ড করে দিয়েছেন সেলিম খান নামের যুবলীগ উত্তরের এক নেতা। এ সময় অনুষ্ঠানের আয়োজক ও ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির নেতা ও নগর উত্তরের যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন সরকারসহ অন্তত আট জন আহত হয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর উত্তরার হোয়াইট হল কমিউনিটি সেন্টারে।
15053380_10154699460939889_1228109256_oজানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে বৃহত্তর উত্তরা এলাকার ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠিত ঢাকা মহনগর দোকান মালিক সমিতির পূব নিধারিত ঈদ পুনমিলনী অনুষ্ঠান চলছিল। দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে খাবার আয়োজনের সময় হঠাৎ করে ঢাকা মহানগর উত্তরের যুব লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সেলিম খানের নের্তৃত্বে একদল শসস্ত্র দুবত্ত অনুষ্ঠান স্থলে হামলা চালায়। এ সময় তারা দাওয়াত না দেয়ায় ব্যবসায়িদের শারিরিকভাবে অপমানিত করে এবং খাবারসহ কমিউনিটি সেন্টারে ভাংচুর চালায়। এ সময় হামলার ঘটনায় নগর উত্তরের যুবলীগ নেতা মামুন সরকারসহ অন্তত আট জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মো. কবির মিয়া (৩০) নামে এক কাপড়ের ব্যবসায়িকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ভর্তিকরা হয়েছে। এছাড়া শামীম, কাওসার, জহিরুল ইসলাম আব্বাসি, মনিরুল, সোহাগ, স্বপনসহ আরো ৭-৮ জন আহত হন। লাঞ্ছনার শিকার হন ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির নেতা ও নগর উত্তরের যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন সরকারসহ দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।
15045329_10154699461259889_2024229300_oঘটনার বিষয়ে জানতে সেলিম খানের মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি। তবে মামুন সরকার এ প্রতিবেদককে জানান, ব্যবসায়িরা অনুষ্ঠানে কাকে দাওয়াত দেবে সেটা তাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক রঙ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা অনুচিত। তাছাড়া যেভাবে ব্যবসায়িদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে খেতে থাকা অতিথিদের খাবার নষ্ট ও ভাংচুর চালানো হয়েছে তা সুস্থ্য মস্তিস্কের কাজ বলে মনে হয় না।
15086771_10154699461839889_1562471912_nএ ঘটনায় ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি তৌফিক এহসান ও উত্তরা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো: আনোয়ারুজ্জামান নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার কামনা করেছেন। আনোয়ারুজ্জামান বলেন, দাওয়াত না দেয়ায় ব্যবসায়িদের অনুষ্ঠানে এভাবে হামলা মেনে নেয়া যায় না। একটি বিশেষ মহল ব্যবসায়িদের ওপর তাদের আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টার কুট কৌশল হিসেবে এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে।
15101918_10154699461314889_1391313413_oঅনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যবসায়িরা জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে সেলিম খান দাওয়াতের বিষয়টি জানতে চাইলে তাদের মধ্যে হাতা হাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রায় অর্ধ শতাধীক দূর্বৃত্ত দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কমান্ড স্টাইলে ঘটনা স্থলে এসে ২০ মিনিটের মধ্যে খাবার টেবিল ভাংচুর ও আমন্ত্রীত অতিথিদের উপর হামলা চালায়। হামলার সময় ব্যবসায়ী ও অতিথীগণ জীবন বাচাতে খাবার ফেলে অন্যত্র চলে যায় এবং পরে ব্যবসায়িদের প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই আলমগীর গাজী ও এএসআই চন্দনের নের্তৃত্বে পুলিশের একাধীক টিম ঘটনাস্থলে আসে। হামলার সময় সেলিম খানের সাথে যুবদল নেতা মাজেদ খান, জাহাঙ্গীর হোসেন যুবরাজ, এমএ রশিদ খান পলাশ , নেয়ামুল হোসেন নাইস, আশুতোষ দত্ত, আজাদ, ও ফারুক হোসেন আকাশসহ অনেকই জড়িত আছেন বলে অভিযোগ করেছেন উপস্থিত ব্যবসায়িরা।
বিষয়টি জানতে চাইলে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী হোসেন খান জানান, দুপুরে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থটে ফোর্স পাঠিয়ে ছিলাম, কে বা কাহারা করেছে তেমন কিছুই জানা যায়নি। এখন পর্যন্ত থানায় কোন রকম অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব। এ ঘটনায় ব্যবাসয়িদের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শেয়ার করুন