আয়মান সাদিক সমকামী!

প্রকাশিত

জাকির হোসাইন জীবন : এখনো কি এ জনপদে শষ্যের চেয়ে টুপি বেশি? এ কথা এজন্যই বললাম, ধর্মীয় লেবাস হিসাবে টুপি অবশ্যই সম্মান ও শ্রদ্ধার। কিন্তু যে টুপি শুধুই চরিত্র ঢেকে রাখার লেবাস, সে টুপি আদৌ বিশেষ কোন গুরুত্ব বহন করে কি?

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বড় একটি শ্রেণী সফল উদ্যোক্তা ইউটিউবার আয়মান সাদিককে সমকামী,নাস্তিক,মুছলমানের শত্রু, সমকামিতা প্রচার করার জন্য ব্রিট্রিশ রানী থেকে পুরষ্কার পেয়েছে! এরকম কমেন্ট ও সমালোচনা করে মুছলমানদের দুশমন প্রমান করার চেষ্টা চালাচ্ছে। টেন মিনিট স্কুল বয়কটের আহ্বান জানাচ্ছে।

এরমধ্যে আমার পরিচিত কয়েকজনকে ও দেখলাম। কিন্তু হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে,আয়মান সাদিক কি করেছে বা কি বলেছে? বেশিরভাগই তা নিজে না দেখে, না শুনেই তার বিরুদ্ধে আজে বাজে কমেন্ট করছে। ১০ মিনিট স্কুল বয়কটের আহ্বান করছে। তার মানে শুনা কথার ওপর ভিত্তি করেই সমালোচনার শুরু।

আরেক শ্রেণী দেখলাম আয়মান সাদিককে সমকামী প্রমান করার জন্য, এক ওয়াজ ব্যবসায়ীর দেওয়া রেফারেন্স লিংক সহ পোস্ট শেয়ার করে বেড়াচ্ছে, ইনবক্স করছে। ওয়াজ ব্যবসায়ীর রেফারেন্সে দেখলাম ইংরেজি ভাষায় কিছু মনগড়া লেখা, ব্লকের লিংক ছাড়া কিছুই নেই। অর্থাৎ আয়মানের বিরুদ্ধে কিছু ব্লকের লেখা লিংক দিয়ে রেফারেন্স হিসাবে আয়মান সাদিককে নাস্তিক – সমকামী বলে প্রচার করছে। আরেক শ্রেণী মহানন্দে তা বিশ্বাস করে শেয়ার ও তার বিরুদ্ধে বাজে কমেন্ট করছে। যেনো সমালোচনা করার জন্যই এদের জন্ম!
এমন কিছু মানুষকে আমি জানি, যারা তাদের বিপরীত লিঙ্গের বন্ধুর সাথে একাধিকবার সর্বোচ্চ সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে। অথচ আয়মান সাদিককে অধার্মিক প্রমান করতে আজে বাজে কমেন্ট করছে। সাচ্চা মুছলামন হিসাবে যেনো ঈমানী দায়িত্ব।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অধিকার কারো নেই। তবে ধর্মীয় অনুভূতির পরিধি কতটুকু! এ সঙ্গা অথবা সীমা নির্ধারণ করার সময় মনে হয় এসে গেছে। না হলে, লালসালু উপন্যাসের ব্যাপারীর বউয়ের মতো অনেকেরই,ভন্ডদের ভন্ডামীতে তালাক হয়ে যাবে। এ সমাজ বুঝে, না বুঝে তালাক দিবে। আয়মান সাদিকদের ব্যাপারীর বউয়ের মতো পরিনতি হবে।

আয়মান সাদিকের সাথে আমার ব্যক্তিগত কোন পরিচয় বা সম্পর্ক নেই। তবে একজন মেধাবী সৃষ্টিশীল মানুষকে নিয়ে যখন সস্তা সমালোচনা বাজে কমেন্ট দেখি, আহত হই।

ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইবিএ সম্পন্ন করা উদ্যোক্তা হওয়া ইউটিউবার হওয়া মানবিক কাজ করা,এ বিষয়ে আলোচকদের দশ ভাগের এক ভাগ মানুষেরও উৎসাহ পাননি তিনি। এই জনপদে উৎসাহ দেওয়ার মানুষ না পাওয়া গেলেও বুঝে, না বুঝে,জেনে না জেনে,সামন্য কারণে অথবা অপবাদ দিয়ে সমালোচনার করার, পা টেনে নিচে নামানোর মানুষের অভাব হয় না। অনেকেরই রক্তের মধ্যেই সস্তা সমালোচনার বদ অভ্যাস আর অনেকে বুঝে না বুঝে এতে সংক্রামিত হয়।

তবে আমি বিশ্বাস করি, হিংসা ছড়ানো ছেড়ে দিলে এ জনপদে শান্তি ও সমৃদ্ধি নেমে আসবে। যেকোন ইস্যুতে দ্রুত জাজমেন্টাল না হয়ে, আগে বোঝেন তারপর মতামত প্রকাশ করুন।

লেখক : আহ্বায়ক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ৭১’ র চেতনা

শেয়ার করুন