আসন্ন অধিবেশনেই উঠছে বিআরটিএ আইন -২০১৫: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) আইন-২০১৫ সংসদের আসন্ন অধিবেশনে পাশের জন্য পেশ করা হবে।

তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তাকে সামনে রেখে প্রস্তুতকৃত রোড ট্রান্সপোর্ট (আরটিএ) আইন-২০১৫ জাতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে পেশ করা হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক-ইন সেন্টারে ‘সড়ক নিরাপত্তায় আইন প্রণয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। সেমিনারের আয়োজক ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি ‘অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ’।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্ঠা ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। বক্তব্য রাখেন ব্রাকের নির্বাহী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মুসা, ব্রাকের পরিচালক আহমেদ নাজমুল হোসেইন ও আসিফ সালেহ।

“সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে বছরে ২১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়” বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রকাশিত মৃত্যুর হারের তথ্যটি মনগড়া, আজগুবি ও কল্পনাপ্রসূত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন ১০ জন মারা গেলেও সাড়া বছর তিন হাজার ৫শ’ জন মারা যায়। কিন্তু দুর্ঘটনায় এতো মৃত্যু ঘটছে না।

মন্ত্রী জানান, যদি ধরা হোক এখন দিনে বড়জোর ১০ জন মারা যায় তাহলে বছরে ৪ হাজার লোক মারা যেতে পারে। কিন্তু তা কখনো ২১ হাজার হতে পারে না।

মন্ত্রী বলেন, দেশে আইন তৈরি হয়, কিন্তু প্রয়োগ হয় না। আবার অনেক আইন প্রণেতারা আইন মানেনও না। এটা কখনো কখনো ঘটছে তা নয়, বরং প্রতিনিয়ত ঘটে।

অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি রাস্তায় রং সাইডে চলেন অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন,“ অসহায় দৃষ্টিতে আমি তখন তাকিয়ে থাকি। জিজ্ঞেস করলে উত্তর আসে, আগে রাইট সাইডে যাবার ব্যবস্থা করে দেন।”

মন্ত্রী বলেন, আমাকেও প্রচন্ড ট্রাফিক জ্যাম অতিক্রম করে অফিস করতে হয়। আমি তো কখনও রংসাইডে যাই না। গত ঈদের একটি অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে যানজট দুর্ভোগ শেয়ার করে বাইপাইল থেকে চন্দ্রায় পৌনে চার ঘণ্টায় গিয়েছি। অথচ পুলিশ আমাকে বলেছিলো, রং সাইড দিয়ে গেলে মাত্র পনেরো মিনিটে যেতে পারবেন। কিন্তু আমি তাতে রাজি হইনি।’ তিনি বলেন, চার ঘণ্টা রাস্তায় যানজট সহ্য করে যাওয়া কোনো লোক দেখানো নয়।

মন্ত্রী বলেন, কিভাবে আপনি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করবেন? যেখানে যানজট জলজট জনজট সব মিলেমিশে একাকার। তিনি আরও বলেন, নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক চার লেন করলাম। কিন্তু সেই চার লেনের অর্ধেকও এখন নেই। দখলমুক্ত করি, আবার দখলে চলে যায়।
মন্ত্রী জানান, আরিচা সড়কে ২৫ কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা ঠিক করা হয়েছে। এ কারণে সেখানে ৯৮ শতাংশ দুর্ঘটনা কমে এসেছে। তিনি আরও জানান, সারাদেশের মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ ১৪৪টি বাঁক সংশোধনের কাজ অর্ধেক শেষ হয়েছে। ১৬০ কোটি টাকার প্রকল্পের এ কাজের বাকি অর্ধেক শেষ হবে আগামী ডিসেম্বরে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রাস্তার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ১৫০ কিলোমিটার সড়কটির আজিজনগর থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত অত্যন্ত চমৎকার সড়ক। আর আজিজনগর থেকে পঠিয়া পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার সড়কের ২৪টি পয়েন্ট খুব খারাপ। বর্ষায় এগুলো পুরোপুরি পানির নিচে চলে যাওয়ায় এ বেহাল অবস্থা হয়েছে।

দেশের সড়কগুলোতে বিলবোর্ডের ছড়াছড়ি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ঢাকা উত্তরের মেয়র অন্তত এটুকু করেছেন যে তার ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড নামিয়ে নিয়েছেন। চট্টগ্রামের মেয়র নাসিরও নামিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু অন্যান্য সড়কে বিলবোর্ডের ছবি দেখলে জাতি হিসেবে কোথায় আছি এটা নিয়ে প্রশ্ন জাগে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়েল ভেতরে সব বিলবোর্ড সরিয়ে নিয়েছেন। একইভাবে রাজশাহী সিটিতেও কোনো রাজনৈতিক বিলবোর্ড নেই। তিনি বলেন, বিলবোর্ডের ব্যাপারে আর আপোষ নেই। চলতি মাস শেষ হলেই বিলবোর্ড সরানো শুরু করবে মন্ত্রণালয়।

শেয়ার করুন