আল্লাহ যমুনার ভাঙ্গা ঠ্যাকা দ্যাও

প্রকাশিত

রফিক মোল্লা, সিরাজগঞ্জ দক্ষিণ প্রতিনিধি : “আল্লাহ যমুনা নদীর ভাঙ্গা ঠ্যাকা দ্যাও, আংগোরে বাঁচাও। আর কত বাড়িঘর নদীর প্যাটে নিবা? ম্যালা কিছু গাঙ্গে গ্যাছে। দুনিয়ার কর্তাদের বহু কইছি নদীতে কাজ অইত্যাছে না। ও দরদী আল্লাহ তুমি শেষ ভরসা, তুমিই মালিক। অতি আদর করে আংগোরে বানাইছেন, বিশাল জনপদ, কবরস্থানসহ বহু মসজিদ মাদ্রসা ভাঙ্গার কবল থিক্যা রক্ষা করুন।”

রোববার সন্ধ্যায় এনায়েতপুরের আড়কান্দি কবরস্থান সংলগ্ন যমুনা নদীর পাড়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ দোয়া ও তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে আগত মুসুল্লিরা বিশেষ মোনাজাতে কান্নাজাড়িত কন্ঠে কথাগুলো এভাবেই বললেন।

নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ এলাবাসির আয়োজনে নদীর পাড়ে ব্যতিক্রমী এই দোয়া ও কোরআন মাহফিলে আবাল বৃদ্ধ, বণিতা ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরাসহ আশপাশের এলাকা হাজার হাজার মানুষ এককাতারে মহান আল্লাহুর দরবারে ফরিয়াদ করেন।

এ সময় যমুনা নদীর আড়কান্দি, ব্রহ্মণগ্রাম ও ঘাটাবাড়ি এলাকায় কান্নার রোল পড়ে যায়। বসতবাড়ি রক্ষায় প্রভুর দরবারে হাউমাউ করে কান্না করে যমুনা পাড়ের সরলপ্রাণ মানুষেরা।

মাহফিলে প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকার রহমানিয়া কওমি মাদরাসার মোহতামিম হযরত মাও. মোতালেবুর রহমান (সাইফি) ও বিশেষ বক্তা বাংলাদেশ ইমাম সমিতির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী হযরত হাফেজ মাও. হোসাইন মোহাম্মাদুল্লাহ।

এ সময় বক্তারা বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের প্রতিপালন করেন। তিনি আমাদের বাসস্থান রক্ষা করবেন, খাদ্যের অভাব দিবেন না। এটা তিনি পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন। তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতি দয়ালু। তার অসীম ক্ষমতা। আমরা সঠিক পথে না থাকার কারণে অনেক সময় তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিয়েও পরীক্ষা করেন। তবে আমাদের জন্য যা কিছু কল্যাণকর তার সমস্ত কিছুর ব্যবস্থা করে দিবেন মহান আল্লাহ। এ দিকে মাহফিলে আগত ব্রহ্মণগ্রামের মোন্তাজ, পাকুরতলার জাহিদুল ও আড়কান্দির আবদুল মতিন বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর ধরে এনায়েতপুর থানা সদরের ব্রাহ্মনগ্রাম-আড়কান্দি, পাকুরতলা, ঘাটাবাড়ি, বাঐখেলা ও পাঁচিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকায় হাজার হাজার ঘরবাড়ি, বহু শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিস্তৃর্ণ ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। বাঁধের দাবিতে সভা-সমাবেশ, অনশন, মানববন্ধন করেছি। তারপরও টনক নড়েনি কর্তাব্যক্তিদের।

এখন বিধ্বস্তদের একমাত্র আল্লাহ ভরসা ছাড়া উপায় নেই। তিনি অসহায়দের এই বিশাল দোয়া কবুল করবেন।

এ বিষয়ে আয়োজক কমিটির প্রাক্তন শিক্ষক মাষ্টার নুরুল ইসলাম ও আ’লীগ নেতা এনামুল হক জিন্নাহ জানান, ভাঙনের কবলথেকে রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণে নানা কর্মসূচি পালনসহ আবেদন করেও কোন ফল হচ্ছে না। অবশেষে মহান রবের দরবারে নদী ভাঙন থেকে রক্ষায় বিশেষ দোয়া ও কোরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আমাদের বিশ্বাস আল্লাহ নদী ভাঙনের কবল থেকে আমাদের রক্ষা করবেন।

শেয়ার করুন