অসাধারনের সাথে সাধারনের কথা ভাবুন

প্রকাশিত

মানিক মুনতাসির : বাবা আজ কতজন মারা গেছে? আর কতদিন ঘরে থাকতে হবে। তোমার কি আজকে অফিসে যেতে হবে। পিপিইটা পরে যেও । আমি কি বিকালে চাচ্চূর সাথে একটু ছাদে যেতে পারবো। গত প্রায় দু,মাস ধরে প্রতিদিনের কমন প্রশ্ন। প্রশ্নকর্তা আমার বড় ছেলে কল্প ( ). বয়স সাড়ে ৭ বছর।

আজ শুক্রবার । দুপুরে মসজিদে যাই নি। তবে বাড়ির বাইরে গেলাম ১৫ মিনিটের জন্য। ছোট্ট একটা কাজে। রাস্তায় যত সংখ্যক মানুষ দেখলাম। তাতে মনে হল সবই স্বাভাবিক। অবশ্য এটা হয়তো এখন দরকারও আছে। কারণ বাঁচতে হবে। বাঁচার জন্য লুকিয়ে থাকলে কি চলবে। কোভিড-১৯ এর সাথে ফাইট করেই তো বাঁচতে হবে । কিন্তু সারাবছর তো আর ঘরে থাকলে চলবে না। নিজেকে সেফটিনেটের মধ্য্যে রেখেই কাজে যেতে হবে । নিজের নিজেই বাঁচাতে । কেননা অর্থনীতি তো বাঁচাতে হবে। অন্যথায় মানুষ বাঁচবে কি করে। শুধু আমরা কেন? বিশ্বব‌্যাপীই তো চলছে লকডাউন শিথিলের উৎসব। জীবনের প্রয়োজনে এটা হয়তো বাঞ্চনীয়।

একটা স্বস্তিদায়ক খবর হলো-ঢাকার বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, চন্দ্রীমা এর কোনকটাই খুলবে না ঈদের আগে। ফলে যারা ঈদ শপিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তারা সেই শপিংয়ের অর্থ গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দিন। আর যারা দেশের বাইরে যেতেন শপিং করতে তারা আপাতত ঘরে বসে গুগল ম্যাপ সার্চ করে ঘুরতে থাকুন ইউরোপ-আমেরিকায়।

আর হ্যাঁ যারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছেন, ভাবুন এবার শান্তি কোথায়। সে টাকায় দেশেই বিনিয়োগ করা ভাল ছিল কিনা-। আর যারা কোটিপতি আছেন। কিন্তু এই মহামারীতে হাত গুটিয়ে বসে আছেন-তারা বসেই থাকুন। সাবধান ঘরের বাইরে গেলে, কোভিড-১৯ কিন্তু আপনাকে আলাদাভাবে চিনবে না। অতএব, গচ্ছিত টাকার একটা অংশ বিলিয়ে দিন। পাপটা হালকা হবে । মনে রাখুন কোরােনায় ধরলে টাকা দিয়ে কোন কাজ হবে না। কারণ আমাদের আইসিইউ সংকট আছে । বিদেশেও যেতে পারবেন না। ফলে হার্ট যদি দুর্বল থাকে, প্রেশার যদি হাই থাকে, লিভারে যদি কোন সমস্যা থাকে । তাহলে আপনি বেশি ঝুকিপূর্ন। ফলে সময় থাকতে সাবধান ।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে মারা যাওয়া সাংবাদিক আসলাম রহমানকে হাসপাতালে নিতে একটা অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত পায়নি ভোরের কাগজ কর্তৃপক্ষ। আপনি হয়তো সেটা পাবেন । আমি পাবো কিনা-জানি না। কতটা নির্মম আর দুর্দশাগ্রস্ত আমরা মরার আগে হাসপাতালে যেতে একটা অ্যাম্বুলেন্স পাই না। হাসাপাতালে গেলেও একটাা অক্সিজেন মাস্ক পাই না।

আজ দেখলাম একজন গার্মেন্টম মালিক কাম চিত্র অভিনেতা খুব বড় গলায় বললেন যারা তাদের সমালোচনা করেন তারা দেশকে কি দিয়েছে। দেশের প্রতি তাদের কন্ট্রিবিউশনটা কি? তারা কি জানেন একটা কোম্পানি চালাতে কি লাগে । তিনি নাকি প্রতি মাসে ১২ কোটি টাকার বেতন দেন। ইত্যাদি ইত্যাদি। সব ঠিক আছে। কিন্তু তাঁর শেষ কথার জবাবটা দিতে চাই -আপনি বেতন দেন ভাল কথা। সেটা নিশ্চয়ই দান না সদকা নয়। নিশ্চয়ই আপনি পারিশ্রমিক দেন। ঘামের বিনিময় দেন । সো এটা নিয়ে অহংকার করার কি আছে ।

আর হ্যা- একজন সাধারণ মানুুষ জাস্ট একজন ভিক্ষুকের কথা ভাবুন। তিনি ভিক্ষার টাকায় যখন একটা পাউরুটি কিনেন । সেখানে ‌ভ্যাট দেন। যদি একটা লুঙ্গি কিনেন ২০০ টাকায় । সেখানেও তাকে ৩০ টাকা ‌ভ্যাট দিতে হয় । আর স্বর্দি-জ্বরের জন্য যে ওষুধ কেনেন সেখানেও ভ্যাট দেন ১৫ টাকা হারে । সেই করের টাকাতেই কিন্তু পদ্মাসেতু, মেট্টোরেল হচ্ছে-।কিন্তু আপনি কি দেন। বেশিরভাগই ব্যবসায়ীই তো বাজেটের আগে করপোরেট কর কমানোর জন্য কান্নাকাটি করেন। সরকার আপনার করেরর বোঝা কমিয়েও দেন। কিন্তু ঐ সাধারণ মানুষ, ভিক্ষুক কোনদিন কি মানব বন্ধন করেছে নাকি কোন লিখিত আবেদন করেছে যে আমার ওপর থেকে ভ্যাটের বোঝা কমিয়ে দিন । অতএব, এবার মিলিয়ে নিন দেশ গঠনে কার কি অবদান ।

০৮ মে-২০২০। রাত ৮. ৪৫ মিনিট ।

লেখক : গণমাধ্যম কর্মী, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন।

শেয়ার করুন